ঢাকা   বুধবার ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২, ২৫ রজব ১৪৪৭

বার্লিনে হাদি হ-ত্যার বিচারের দাবিতে সমাবেশ

জাতীয়

সুমন আকরাম, বার্লিন

প্রকাশিত: ১২:১২, ১২ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১২:২২, ১২ জানুয়ারি ২০২৬

বার্লিনে হাদি হ-ত্যার বিচারের দাবিতে সমাবেশ

বার্লিনে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে সমাবেশ

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন ও কালচারাল প্ল্যাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর নেতা ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে এবং দোষীদের বিচারের দাবিতে জার্মানিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন। গতকাল জার্মান সময় সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক বার্লিনের ব্রান্ডেনবুর্গার গেটের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে প্রায় ৫০ থেকে শতাধিক দেশি-বিদেশি প্রতিবাদী অংশগ্রহণ করেন। প্রতিবাদীদের কণ্ঠে বারবার ধ্বনিত হয় “হাদির জিন্দাবাদ” স্লোগান। হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচির প্রধান আয়োজক মো. ইমদাদুল সাদিক বলেন, হাদি হত্যার ঘটনায় যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে তা একটি প্রহসন। এই চার্জশিট তাঁরা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না এবং ন্যায়বিচার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। প্রবাসী ডায়াস্পরার এই সমাবেশে হাদির প্রতি গভীর আবেগ ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

রবিবার বার্লিনের তাপমাত্রা ছিল প্রায় মাইনাস ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তবে অনুভূত হচ্ছিল মাইনাস ১০ ডিগ্রির মতো। তীব্র শীত উপেক্ষা করে সকাল ১১টা থেকেই প্রবাসী ডায়াস্পরার নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সের মানুষ এই সমাবেশে অংশ নেন। বক্তারা বলেন, এই প্রহসনমূলক চার্জশিট প্রবাসীরা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। যদি বিচার প্রক্রিয়ায় গড়িমসি করা হয় বা ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হয়, তবে প্রয়োজনে নিয়মিত প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রবাসীদের আরও ঐক্যবদ্ধ করা হবে। এমনকি ভবিষ্যতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, প্রয়োজনে প্রবাসীদের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার ‘রেমিট্যান্স’ বন্ধ করে চাপ প্রয়োগের কথাও আলোচনায় উঠে আসে।

সমাবেশে নারী ও শিশুদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নারীদের মধ্যে মিলাদিন ফাউন্ডেশনের স্বত্বাধিকারী রুজমিলা খন্দকার মিলা উপস্থিত ছিলেন। তিনি হাদির আদর্শকে মনে ও মননে ধারণ করার আহ্বান জানান। শাহিদা আক্তার রুনুও বক্তব্য রাখেন এবং হাদির চেতনাকে ধারণ করে নিজেদের পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহ-আয়োজক ফয়জুল্লাহ ফাইয়াজ। তিনি সমাবেশের উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এবং ব্যাপক অংশগ্রহণের জন্য ডায়াস্পোরার সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। আয়োজক আলিম মিয়া জার্মান ভাষায় বক্তব্য রেখে স্থানীয় নাগরিকদের উদ্দেশে বাংলাদেশের ওপর চলমান আধিপত্যবাদী শক্তির প্রভাবের কথা তুলে ধরেন এবং এসব বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। খালেদ বিন রশিদ হাদির আদর্শকে ব্যক্তিগত জীবনে ধারণ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। অন্যতম আয়োজক সৈয়দ মাহিনও হাদি হত্যার বিচারের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন। দেশ থেকে এই সমাবেশ আয়োজনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আব্দুল্লাহ আল নোমান। জনসংযোগে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মুস্তাক আহমেদ নীরব।

মো. ইমদাদুল সাদিক তাঁর কবিতায় অপরাজেয় বাংলাদেশের চেতনা ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে হাদির প্রতীকী অবস্থান তুলে ধরেন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন মুনশি জুমরাদ, তাজুল ইসলাম, লিখনসহ আরও অনেকে।

সমাপনী বক্তব্য রাখেন সহ-আয়োজক তাঞ্জিদ নাহিয়ান। প্রাঞ্জল ভাষায় তিনি হাদির মৃত্যুর পেছনের ষড়যন্ত্র এবং হাদির আদর্শের অমরতার কথা তুলে ধরেন, যা উপস্থিত প্রবাসীদের আবেগাপ্লুত করে তোলে।

আয়োজকদের মতে, “হাদির জিন্দাবাদ” এখন দেশ ছাড়িয়ে দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তাঁরা এটিকে একটি সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জাগরণের সূচনা হিসেবে দেখছেন। তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাস, হাদি হত্যার বিচার অনস্বীকার্য ও অনিবার্য। এটি কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। শেষ পর্যন্ত যেভাবেই হোক, যারা জড়িত থাকুক না কেন, বিচার হতেই হবে। সমাবেশের শেষে আয়োজকরা হাদি কালচারাল সেন্টারের সঙ্গে কাজ করা এবং হাদির আদর্শে অনুপ্রাণিত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।