তিন জেলায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু
তিন জেলায় বজ্রপাতে স্কুলছাত্র ও নারীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গায় স্কুলছাত্রসহ দুজন, মুন্সীগঞ্জে দুই যুবক এবং ঝিনাইদহের মহেশপুরে গৃহবধূ মারা যান। বৃহস্পতিবার এসব বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার স্কুলছাত্র তাজিমুদ্দিন (১৪) বাবার সামনে বজ্রপাতে মারা যায়।
মুন্সীগঞ্জে কালবৈশাখীর সময় বজ্রাঘাতে দুই যুবকের মৃত্যু হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে টঙ্গীবাড়ির ফজুশাহ এবং দীঘিরপাড় এলাকায় ওই বজ্রাঘাতের ঘটনা ঘটে। ফজুশাহ এলাকার মনির ঢালীর ছেলে রিজন ঢালী (২০) বাড়ির পাশে নিজস্ব কৃষি জমিতে কাজ করছিলেন। এ সময় কালবৈশাখী শুরু হয় এবং আকস্মিক বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। একই সময় দীঘিরপাড় এলাকায় জসিম খানের ছেলে আরাফাত খান বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে টঙ্গীবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
টঙ্গীবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার নূরে আলম সিদ্দিক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে স্কুলছাত্রসহ দুজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তিরা হলেন জীবননগরের ঘোষনগর গ্রামের রেজাউল হোসেনের ছেলে রাসেল (২৫) এবং তাজিমুদ্দিনের ছেলে দর্শনার মেমনগর বিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্র আজিমুদ্দিন (১৪)। দুপুর ১২টার দিকে এ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।
জীবননগর থানার ওসি অফিসার ইনচার্জ সোলাইমান শেখ জানান, ঘোষনগর গ্রামের রাসেল সকাল থেকে বাড়ির পাশের জমিতে তামাকের খড়ি গোছানোর কাজ করছিলেন। বেলা ১২টার দিকে হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে দামুড়হুদায় বজ্রপাতে তাজিমুদ্দিন (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। দর্শনা থানার ওসি (তদন্ত) হিমেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তাজিমুদ্দিন পার কৃষ্ণপুর গ্রামের আজিমুদ্দিন ইসলামের ছেলে এবং মেমনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
প্রতিবেশী নাইমুর রহমান বলেন, দুপুরে তাজিমুল বাবার সঙ্গে মদনা মাঠে ঝাল (মরিচ) লাগাতে গিয়েছিল। ঝাল লাগানো শেষে জিনিসপত্র গোছানোর সময় বাবার সামনে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।
ঝিনাইদহের মহেশপুরে বজ্রপাতে রোজিনা খাতুন (৩৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে বাথানগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, দুপুরে নিজের বাড়ির রান্নাঘরের পাশে কাজ করছিলেন রোজিনা। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রোজিনা বাথানগাছি গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী।
মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

























