ঢাকা   বৃহস্পতিবার ২১ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ০৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে পাওয়ারফুল রাডার স্থাপন করা হয়েছে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে পাওয়ারফুল রাডার স্থাপন করা হয়েছে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ অত্যাধুনিক নতুন রাডার স্থাপনের মাধ্যমে দেশের আকাশসীমা নজরদারিতে বড় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের উন্নয়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সিভিল এভিয়েশন এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা বেবিচক (CAAB)। রাডারটি সরবরাহ করেছে ফ্রান্সভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থ্যালেস গ্রুপ।

এই নতুন রাডার চালুর ফলে দেশের আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন রাজধানী ঢাকায় বসেই দেশের বিস্তৃত আকাশসীমা, এমনকি বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন এলাকাতেও কার্যকর নজরদারি পরিচালনা করতে পারবে। এতে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি অবৈধ বা অননুমোদিত উড়োজাহাজ চলাচল শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রাডার ব্যবস্থা চালুর ফলে এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট আরও আধুনিক ও দক্ষ হবে। একইসাথে আকাশসীমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়ম-নীতি প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনাও বাড়বে। অতীতে যেসব বিদেশি উড়োজাহাজ যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে আকাশসীমা ব্যবহার করত, সেগুলোর ওপর নজরদারি ও প্রয়োজনে শুল্ক আরোপের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এছাড়া, জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এই রাডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আকাশ ও সমুদ্রসীমায় নজরদারি শক্তিশালী হওয়ায় সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর মধ্যে রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদান আরও কার্যকর হবে।

সামগ্রিকভাবে, এই প্রকল্পটি দেশের বিমান চলাচল অবকাঠামো আধুনিকীকরণ এবং নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।