ঢাকা   মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩, ০৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা ইশরাকের

জাতীয়

বিডিটোন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:০৫, ২০ অক্টোবর ২০২৬

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা ইশরাকের

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা ইশরাকের

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তবে পরবর্তী প্রজন্মকে রক্ষায় মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আজ থেকে আমি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অব্যাহতি চেয়েছি। আমি তাঁকে বলেছি, পুরো সময়টা আমি ঢাকা-৬ আসন এবং আশপাশের এলাকায় মাদক নির্মূল এবং জনজীবনের অন্যান্য সমস্যা সমাধানে কাজ করতে চাই। তিনি সম্মত হয়েছেন এবং আমাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছেন।’

পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মাদকবিরোধী এই অভিযান কেবল শুরু হয়েছে, এটি চলমান থাকবে। যতদিন চলবে, আমার কারণে যেন প্রধানমন্ত্রীর কোনো কর্মকাণ্ড ম্লান না হয় এবং আমার দল যাতে বিব্রত না হয়, সে জন্যই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
 
অভিযানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি জানান, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর গেন্ডারিয়ার রেললাইন সংলগ্ন ঘুন্টিঘর এলাকাটি মাদক বিক্রি ও বিতরণের বড় কেন্দ্রে পরিণত হয়।

সেখান থেকে আশপাশের স্কুল ও কলেজে মাদক ছড়িয়ে পড়ছে বলে এলাকাবাসী বারবার অভিযোগ করে আসছিলেন। পরে ঢাকা-৬ আসনের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠকে পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়।

গত ১৭ অক্টোবরের অভিযানের বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে সেখান থেকে প্রায় ৩০০ গ্রাম হেরোইন, মদ, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র এবং এক ব্যাগ ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ সময় পুলিশ আলামতসহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। 

অস্ত্র প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমার নামে একটি পিস্তল ও একটি রাইফেলের বৈধ লাইসেন্স রয়েছে। ওই এলাকায় এর আগে ছাদ থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় পুলিশ সদস্যরা আহত হয়েছেন। তাই আমি নিজের নিরাপত্তার জন্য যতটুকু সময় প্রয়োজন, ততক্ষণ অস্ত্রটি হাতে রেখেছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি আমার দ্বারা কোনো ভুল হয়ে থাকে, কিংবা এই অভিযানের মাধ্যমে যদি কাউকে আঘাত দিয়ে থাকি, তবে সেটির জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। কিন্তু আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সেদিন কোনো ভুল করিনি।’

ইশরাক হোসেন বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল মাদক নির্মূল। কিন্তু একটি ছবিকে ঘিরে নানা ধরনের বক্তব্য তৈরি করে শুধু অস্ত্র হাতে থাকার দৃশ্যটিকে সামনে আনা হয়েছে। এতে করে মূল বিষয় থেকে দৃষ্টি ভিন্নখাতে সরে গেছে। রাস্তায় যারা খুচরা মাদক বিক্রি করে, আমরা তাদের খুঁজছি না, খুঁজছি মাদকের মূল সরবরাহকারীদের। তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে না পারলে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

এ সময় মাদকের আস্তানা এবং মূল হোতাদের বিষয়ে তথ্য পেতে গণমাধ্যমসহ সকলের সহযোগিতা চান তিনি।

মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য বলেন, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে যেভাবে ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে, অভিভাবকদের অনেকেই আমার কাছে এসে আহাজারি করেছেন।

মাদক এভাবে সহজলভ্য থাকলে দেশের কোনো ভবিষ্যৎ থাকবে না। মাদক শুধু আমাদের ভবিষ্যৎই ধ্বংস করবে না, রাষ্ট্রের অস্তিত্বকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে। 
 
মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু যুদ্ধ এখনও চলমান, সেটা হোক সাংস্কৃতিক যুদ্ধ, অর্থনৈতিক কিংবা মাদক প্রতিরোধ ও সীমান্ত নিরাপত্তার। 

তিনি বলেন, জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। তাই সব ধরনের অপপ্রচার রুখে দিয়ে আগামী দিনে বাংলাদেশকে একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাব।

উল্লেখ্য, গত শনিবার ইশরাক হোসেনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে গেন্ডারিয়ার দয়াগঞ্জ ঘুন্টিঘর রেলক্রসিং এলাকায় পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানের ভিডিও প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে একটিতে তাকে পিস্তল হাতে দেখা যায়। 

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সেই প্রেক্ষাপটে সোমবার সকালে ফেসবুক পোস্টে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দিবেন বলে জানান।