মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ
ঢাকা বিভাগে মৎস্য সম্পদের টেকসই উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ বদ্ধ ও উন্মুক্ত জলাশয়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং এ খাতের উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন কর্মশালা (ওয়ার্কশপ) অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘ঢাকা বিভাগের মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন: বর্তমান প্রেক্ষিতে চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এই কর্মশালায় বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তন, জলাশয় ভরাট এবং গুণগত মানের মৎস্য খাদ্যের দুষ্প্রাপ্যতাকে বর্তমান সময়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করে তা মোকাবেলায় আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।
ঢাকা বিভাগের মৎস্য দপ্তরের পরিচালক *জনাব আহসান হাসিব খান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালী উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. খালেদ কনক এবং কর্মশালায় মূূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালক জনাব মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. খালেদ কনক বলেন, "দেশের মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণ এবং অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে মৎস্য খাতের ভূমিকা অপরিসীম। ঢাকা বিভাগে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার আবাসন ও শিল্পায়নের কারণে মৎস্য চাষের জমি সংকুচিত হচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে উৎপাদন সচল রাখতে আমাদের নিবিড় (Intensive) ও আধা-নিবিড় (Semi-intensive) মৎস্য চাষ পদ্ধতির দিকে যেতে হবে। একই সাথে ইলিশ ও অন্যান্য দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনাকে আরও জোরদারসহ মৎস্য অধিদপ্তরের প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহবান জানান।"
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা *জনাব মোঃ সাহেদ আলী এবং অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিবিজনেস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোঃ মোশাররফ হোসেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনাব মোঃ সাহেদ আলী মাছের জাত উন্নয়ন ও রোগবালাই দমনে মাঠপর্যায়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফল দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়াসহ উপস্থিত কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব প্রদান করেন। অন্যদিকে, অধ্যাপক ড. মোঃ মোশাররফ হোসেন মৎস্য খাতের বাণিজ্যিক ও বিপণন ব্যবস্থার ওপর আলোকপাত করে বলেন, "শুধু মাছ উৎপাদন করলেই হবে না, বরং খামারিরা যাতে সঠিক মূল্য পান সে জন্য ‘অ্যাগ্রো-এন্টারপ্রাইজ’ বা কৃষি-উদ্যোক্তা মডেল তৈরি করতে হবে। মৎস্য খাতের সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ শৃঙ্খল আধুনিকায়ন করা এখন সময়ের দাবি।"
সভাপতির বক্তব্যে জনাব আহসান হাসিব খান কর্মশালায় উত্থাপিত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সুপারিশের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন এবং ঢাকা বিভাগের মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও আন্তরিকতার সাথে কাজ করার নির্দেশনা দেন।
কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা বিভাগের অধীনে কর্মরত বিভিন্ন জেলার জেলা মৎস্য কর্মকর্তাবৃন্দ (DFO), সিনিয়র সহকারী পরিচালক, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ মৎস্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উন্মুক্ত আলোচনায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ তাদের নিজ নিজ এলাকার মৎস্য চাষের বাস্তব সমস্যা, পোনা মাছের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ এবং খামারিদের মান সম্মত মৎস্য খাদ্য প্রাপ্তির জটিলতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
উপস্থিত কর্মকর্তাবৃন্দ ও মৎস্য বিশেষজ্ঞরা একমত প্রকাশ করেন যে, সরকারি-বেসরকারি খাত এবং একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ প্রয়াসই পারে ঢাকা বিভাগের মৎস্য খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে একটি টেকসই ও লাভজনক মৎস্য সেক্টর গড়ে তুলতে।

























