বোরকা পরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্টোরে আগুন
গভীর রাতে বোরকা পরে আগুন দেয়া হয় রাজধানী মিরপুর মডেল থানাধীন মিরপুর-২ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্টোর রুমে। আর সেই আগুন লাগানোর ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন–অধিদপ্তরের পরিচ্ছন্নতাকর্মী আসমাউল ইসলাম, মো. জিন্নাত আলী বিশ্বাস ও হুমায়ুন কবির খান।
শনিবার সন্ধ্যায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোস্তাক সরকার। তিনি বলেন, শুক্রবার রাত আনুমানিক ২টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যবর্তী সময়ে মিরপুর-২ এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ২য় তলার স্টোর রুমে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়।
এ ঘটনায় ৭৩৫ টি ল্যাপটপের মধ্যে ৪৫০ টি ভালো অবস্থায়, ৩৩টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত, ২৯টি অধিক মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং ১৪০টি সম্পূর্ণ পোড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। বাকী ৮৩টি ল্যাপটপ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মিরপুর মডেল থানার একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়।
তিনি আরো বলেন, পরবর্তীতে শনিবার বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৩টার সময় মিরপুর মডেল থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সাথে জড়িত শিক্ষা অধিদপ্তর কর্মরত পরিচ্ছন্নকর্মী (মাস্টার রোল) মো. আসমাউল ইসলামকে মিরপুর-২ নং এলাকা হতে গ্রেফতার করে। যে কিনা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে নিজে স্টোর রুমে আগুন লাগানোর কথা স্বীকার করেছে।
পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামির স্বীকারোক্তি ও প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণের পর মিরপুর মডেল থানা পুলিশ একই দিন বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মিরপুর শিক্ষা অধিদপ্তরে অভিযান পরিচালনা করে মামলার ঘটনার সাথে জড়িত অপর দুই আসামি মো. জিন্নাত আলী বিশ্বাস ও হুমায়ুন কবির খানকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর অগ্নিকাণ্ডস্থল সশরীরে পরিদর্শন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সেসময় তাদের সাথে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন এবং অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌসী উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে সচিবকে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।

























