ঢাকা   সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২, ২৭ শা'বান ১৪৪৭

কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি?

কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি?

কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধ্বস বিজয় অর্জনের পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি ও সমমনা ১২ দল। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিকেলে মন্ত্রীপরিষদের সদস্যরা শপথ নেবেন। 

নতুন সরকারে কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা ও অনুমান। তবে, সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে, কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি, তা নিয়ে। 

জুলাই সনদ অনুযায়ী, এবার রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়বে এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কিছুটা কমবে। তাই, এ পদে একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য নেতাকে বসানো হলে সরকারে স্থিতিশীলতা ও অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞজনরা।

বিএনপি সরকার গঠনের ম্যান্ডেট পেলেও সামনের পথ মোটেই সহজ নয়। এই পরিস্থিতিতে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পাশে দক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য হাতের প্রয়োজন। সেদিক থেকে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সম্ভাবনা ও প্রত্যাশা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। 

১০ বছর ধরে বিএনপির মহাসচিবের গুরুদায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিগত সময়ে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিদেশে থাকলেও মির্জা ফখরুল দক্ষ হাতে দল পরিচালনা করেছেন তিনি। 

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরা যখন তারেক রহমানকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন, তখন পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করা সত্ত্বেও সাংসদ পদে শপথ নেননি মির্জা ফখরুল, বরং দলের কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়োজিত ছিলেন। 

মির্জা ফখরুলের সমর্থকরা বলছেন, তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা এবং সৎ নেতৃত্ব তাকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য যোগ্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। পরে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী এবং দলের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার দায়িত্বশীল ও ন্যায়পরায়ণ চরিত্র নতুন সরকারের প্রথম ধাপে সরকারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

অপরদিকে, দীর্ঘদিন ধরে চলা আলাপ অনুযায়ী, বিএনপি নির্বাচনে জিতলে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করার পরিকল্পনা ছিল। অনেকে মনে করেন, এটি হলে আন্তর্জাতিকভাবে বিএনপির ভাবমূর্তি এবং কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি সুবিধাজনক হবে। দলীয় কার্যক্রম থেকে দূরে থাকা এক ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি করা হলে সরকারের প্রতি আস্থা আরো দৃঢ় হবে।

মির্জা ফখরুল ও ড. ইউনুসের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় আছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। 

তবে, বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেছেন, “রাষ্ট্রপতি নিয়ে এখন পর্যন্ত আলোচনা হয়নি। এ বিষয়ে একমাত্র চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিদ্ধান্ত নেবেন।”