এডাস্ট ও বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের যৌথ উদ্যোগে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে কর্মশালা
উচ্চশিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিকীকরণ এবং যুগোপযোগী মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের (BAC) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান।
তিনি বলেন, “উচ্চশিক্ষার মান নির্ধারণ কেবল অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করে না; বরং শিক্ষাদানের মান, মানসম্মত গবেষণা, লার্নিং আউটকাম এবং ধারাবাহিক প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল।”
আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (এডাস্ট) বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল এবং এডাস্ট-এর ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স সেল (IQAC)-এর যৌথ উদ্যোগে “বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের অ্যাক্রেডিটেশন, কিউএ ও বিএনকিউএফ” শীর্ষক দিনব্যাপী এক কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এডাস্ট আইকিউএসি’র পরিচালক ও এগ্রিবিজনেস বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. মোশাররফ হোসেন এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন রোবোটিক্স অ্যান্ড অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ও আইকিউএসি’র অতিরিক্ত পরিচালক জনাব মাজিদ ইশতিয়াক আহমেদ।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান এম. শামসুল আলম লিটন। তিনি দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, “উচ্চশিক্ষায় কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স (QA) নিশ্চিতকরণ এবং ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক (NQF) কার্যকর বাস্তবায়নে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”
সম্মাননীয় অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাকির হোসেন বলেন, “মানসম্মত শিক্ষা প্রদান কোনো সাময়িক বিষয় নয়, এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের নির্ধারিত মানদণ্ড অর্জনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা—সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন এডাস্ট-এর প্রাক্তন উপাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনার তাগিদ দেন এবং অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের অনন্য সুযোগ হিসেবে গ্রহণের আহ্বান জানান।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের পূর্ণকালীন সদস্য প্রফেসর ড. মো. শাহ্ আমরান। তিনি বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক (BNQF), মানদণ্ড মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের কৌশলের ওপর বিস্তারিত আলোকপাত করেন। পরবর্তীতে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিএসি-এর পরিচালক প্রফেসর নাসির উদ্দিন আহমেদ।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে একটি মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, কো-অর্ডিনেটর ও শিক্ষক-কর্মকর্তাবৃন্দ অংশ নেন। এ সময় এডাস্ট আইকিউএসি’র অতিরিক্ত পরিচালক ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. জাবের আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই কর্মশালার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে অ্যাক্রেডিটেশন ও উচ্চশিক্ষার মানদণ্ড বিষয়ে সচেতনতা ও সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

























