এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা আজ থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হয়েছে।
সকাল ১০টায় বাংলা প্রথমপত্রের (আবশ্যিক) মাধ্যমে এ পরীক্ষা শুরু হয়েছে, যা বেলা ১টা পর্যন্ত চলবে।
এবারের পরীক্ষায় মোট ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে সর্বমোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এবার সব পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। আগে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে এইচএসসি পরীক্ষা প্রতিটি বোর্ডের আলাদা আলাদা প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হতো।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারও মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যায় ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের সংখ্যা বেশি। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন ও ছাত্রী সংখ্যা ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। অর্থাৎ, ছাত্রদের চেয়ে ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি ছাত্রী এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে দেশের সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি কেন্দ্রীয় ‘সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং সেল’ খোলা হয়েছে।
এই সেলে বসে দেশের যেকোনো প্রান্তের যেকোনো কেন্দ্রের পরীক্ষা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’র (শরীরে পরিহিত) ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা রোধে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সরকার।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, মাদ্রাসা বোর্ডে ৯২ হাজার ৯০৫ জন ও কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন।
বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ৩৯৩ জন ও বরিশাল বোর্ডে সবচেয়ে কম ৫৮ হাজার ৬৯৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে এই পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। যেদিন পরীক্ষা থাকবে না, সেদিন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চালু থাকবে। লিখিত পরীক্ষা চলবে ৮ আগস্ট পর্যন্ত ও ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৫ আগস্টের মধ্যে শেষ করতে হবে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে অনাকাক্সিক্ষত যানজট এড়াতে পরীক্ষার্থীদের সকাল ৮টা ৩০ মিনিটের মধ্যে কেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।
নকলের জন্য বিতর্কিত সব ভেন্যু কেন্দ্র আগেই বাতিল করা হয়েছে। তবে হাওর, পার্বত্য ও দুর্গম চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিশেষ বিবেচনায় কিছু ভেন্যু কেন্দ্র বহাল রেখে, সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, প্রশ্নপত্র সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদি কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া প্রশ্ন ছড়ায় বা ফাঁসের চেষ্টা করে, তবে সংশোধিত ‘পাবলিক পরীক্ষা আইন ১৯৮০’ অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।

























