ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ও প্রফেসর ইমেরিটাসকে সংবর্ধনা
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি সম্প্রতি দুজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদকে সংবর্ধনা দিয়েছে। তারা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ডাটা অ্যান্ড সায়েন্সেসের ডিন প্রফেসর মাহবুবুল আলম মজুমদার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ইমেরিটাস এএফএম ইউসুফ হায়দার। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
প্রফেসর মাহবুবুল আলম মজুমদার এ বছর শিক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য একুশে পদক পাচ্ছেন। এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। গণিতকে তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় করা এবং গণিত অলিম্পিয়াডে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তিনি এই সম্মাননা পাচ্ছেন।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জানানো হয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এ বছর নয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং একটি জনপ্রিয় রক ব্যান্ডকে একুশে পদক প্রদান করতে যাচ্ছে।
প্রফেসর মজুমদার অনেকদিন ধরে জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াড দলের কোচ ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের বাইরে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যারা এই প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিতেছে।
সম্প্রতি ২০২৬ সালের স্পিরিট অব আবদুস সালাম অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছেন প্রফেসর মাহবুব। বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও শিক্ষার উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ সালে আবদুস সালামের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেয়া হয়।
এই পুরস্কারের ঘোষণা দেয় সালামের পরিবার। আবদুস সালাম ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল ফিজিক্সের প্রতিষ্ঠাতা এবং ১৯৭৯ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।
প্রফেসর মজুমদার ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। তিনি সবসময় দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণের কাজ করছেন বলে আইসিটিপি এর ওয়েবসাইটে জানানো হয়।
অন্যদিকে, প্রফেসর এএফএম ইউসুফ হায়দারকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে প্রফেসর এমেরিটাস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা, শিক্ষা এবং একাডেমিক নেতৃত্বে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই সম্মান দেওয়া হয়।
প্রফেসর ইউসুফ অনেকদিন ধরে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে কাজ করেছেন। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাথমেটিক্স অ্যান্ড ন্যাচারাল সায়েন্সেস বিভাগের চেয়ারম্যান এবং স্কুল অব ফার্মেসির ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার তার অফিসে এই দুজন শিক্ষাবিদকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
প্রফেসর মাহবুবকে সংবর্ধনা জানাতে মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ “অ্যা লাইফ ইন ইকুয়েশন্স, অ্যা লেগেসি ইন নেশন বিল্ডিং” শিরোনামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি শুরু হয় প্রফেসর মাহবুবুল আলম মজুমদারের শিক্ষা ও কর্মজীবনের ওপর একটি ভিডিও প্রদর্শনের মাধ্যমে। এতে তার শিক্ষকতা, গবেষণা এবং দেশের প্রতি তার অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য সাদাফ সাজ সিদ্দিকী, প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী, ট্রেজারার আরিফুল ইসলাম এবং রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড।
আরেকটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর মোহাম্মদ কায়কোবাদ, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ এর অধ্যাপক আরশাদ মোমেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন, একই বিভাগের প্রফেসর নওরীন আহসান এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ম্যাথমেটিকস অ্যান্ড ন্যাচারাল সায়েন্স বিভাগের প্রফেসর হাসিবুল হাসান চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে প্রফেসর মাহবুবের পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন তার বাবা ড. বদিউল আলম মজুমদার, মা তাজিমা হোসেন মজুমদার এবং বোন শাহিরা মজুমদার ও ভগ্নীপতি রাহাত আহমেদ।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রফেসর মাহবুবুল আলম মজুমদার বলেন, তিনি ১৬ বছর বয়সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরবেন। সেই কথা রেখেই তিনি দেশে ফিরেছেন।
অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন ডিপার্টমেন্ট অফ কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এর চেয়ারপারসন ড. সাদিয়া হামিদ কাজী।

























