ঢাকা   শুক্রবার ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩, ১৯ রবিউস সানি ১৪৪৮

এফইআরবি সদস্যদের নিয়ে জ্বালানিবিষয়ক সেমিনার ও এআই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

জাতীয়

বিডিটোন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩৬, ২ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

এফইআরবি সদস্যদের নিয়ে জ্বালানিবিষয়ক সেমিনার ও এআই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

এফইআরবি সদস্যদের নিয়ে জ্বালানিবিষয়ক সেমিনার ও এআই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের (এফইআরবি) সদস্যদের অংশগ্রহণে জ্বালানিবিষয়ক সেমিনার ও সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারবিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) রাজধানীর রমনায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কার্যালয়ের সেমিনার কক্ষে কমিশনের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথম পর্বে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও কমিশনের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। দ্বিতীয় পর্বে সংবাদ সংগ্রহ ও গবেষণা থেকে শুরু করে নথি পর্যালোচনা, তথ্য যাচাই এবং সংবাদ উপস্থাপনার বিভিন্ন ধাপে এআইকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিইআরসির সদস্য (গ্যাস) মো. মিজানুর রহমান, সদস্য (পেট্রোলিয়াম) ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া, সদস্য (বিদ্যুৎ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার, কমিশনের সচিব মো. নজরুল ইসলাম সরকার, এফইআরবির চেয়ারম্যান এম আজিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক সেরাজুল ইসলাম সিরাজ এবং একাত্তর টেলিভিশনের হেড অব বিজনেস ইকবাল আহসান।

জ্বালানিবিষয়ক সেমিনারে বিইআরসি চেয়ারম্যান জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিতরণ ও সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর গত তিন বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এ জন্য একটি স্বতন্ত্র চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস (সিএ) ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা, আয়-ব্যয়ের ধরন এবং প্রকল্পে বিনিয়োগের যৌক্তিকতা যাচাই করা হবে।

জালাল আহমেদ বলেন, কমিশনের অনুরোধে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে গত তিন বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এসব তথ্যের গভীর বিশ্লেষণে কমিশনের নিজস্ব সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা থাকায় স্বতন্ত্র সিএ ফার্মের সহায়তা নেওয়া হবে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বিইআরসির অনুমোদন নেওয়ার বিধান কার্যকর করার উদ্যোগের কথাও জানান চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় পরবর্তী সময়ে ভোক্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রয়োজনীয়তা, বিনিয়োগের যৌক্তিকতা ও ভোক্তা-স্বার্থ যাচাইয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন।

এনার্জি অডিটে সক্ষমতার ঘাটতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, একই পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করেও বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনে বড় পার্থক্য দেখা যায়। কার্যকর অডিটের মাধ্যমে জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যয় সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে। কমিশনের নিজস্ব পরীক্ষাগার স্থাপন এবং আগামী এপ্রিল থেকে লাইসেন্সিং কার্যক্রম পুরোপুরি অনলাইনে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্বে এআইবিষয়ক প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন ব্রডকাস্ট গ্রাফিক্স ও এআই বিশেষজ্ঞ এবং রুদ্র এফএক্সের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী এস কে মনোয়ার নাহিদ। সংবাদকক্ষের দৈনন্দিন কাজে এআইয়ের ব্যবহার, এর সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা এবং সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব বজায় রেখে প্রযুক্তিটির সহায়তা নেওয়ার বিষয়গুলো প্রশিক্ষণে তুলে ধরা হয়।

এ পর্বে কার্যকর নির্দেশনা বা প্রম্পট তৈরির কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। এআইয়ের কাছ থেকে প্রাসঙ্গিক ও ব্যবহারযোগ্য ফল পেতে কাজের উদ্দেশ্য, প্রয়োজনীয় প্রেক্ষাপট, তথ্যসূত্র এবং প্রত্যাশিত উত্তরের ধরন স্পষ্ট করার বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়। সংবাদ গবেষণা, প্রতিবেদন ও নথি বিশ্লেষণ এবং তথ্য থেকে সংবাদের উপাদান চিহ্নিত করার কাজে এআইয়ের প্রয়োগও তুলে ধরা হয়।

দীর্ঘ নথি থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাছাই, সারসংক্ষেপ তৈরি এবং পরবর্তী অনুসন্ধানের প্রশ্ন নির্ধারণে এআই কীভাবে সহায়তা করতে পারে, তা প্রশিক্ষণের আলোচনায় আসে। পাশাপাশি তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও সংবাদ উপস্থাপনায় এআইয়ের সহায়তা নেওয়ার সময় মূল তথ্যের অর্থ ও প্রেক্ষাপট অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এআইয়ের তৈরি তথ্যের যথার্থতা যাচাই। এআই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর দিলেও তাতে ভুল তথ্য বা ভিত্তিহীন সূত্র থাকতে পারে—এ বিষয়টি তুলে ধরে তথ্যসূত্র, উদ্ধৃতি, তারিখ ও পরিসংখ্যান মূল উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা হয়। ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত এবং যাচাই ছাড়া এআইয়ের উত্তর সংবাদে ব্যবহার না করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

সাংবাদিকতায় এআই ব্যবহারের নৈতিক দিক ও সম্পাদকীয় দায়িত্বও প্রশিক্ষণে গুরুত্ব পায়। সংবাদ তৈরির বিভিন্ন ধাপে প্রযুক্তিটির সহায়তা নেওয়া হলেও চূড়ান্ত তথ্য যাচাই, সম্পাদনা ও প্রকাশের সিদ্ধান্তে সাংবাদিকের তত্ত্বাবধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। কাজের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি সংবাদের নির্ভুলতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও পেশাগত মান বজায় রাখার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।

সর্বশেষ