ঢাকা   সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৮

চরাঞ্চলের কৃষি ও জলবায়ু গবেষণার কেন্দ্র হতে চায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

জাতীয়

বিডিটোন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:০৫, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

চরাঞ্চলের কৃষি ও জলবায়ু গবেষণার কেন্দ্র হতে চায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

চরাঞ্চলের কৃষি ও জলবায়ু গবেষণার কেন্দ্র হতে চায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

চরাঞ্চলের কৃষি, বন্যা, জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্যনিরাপত্তার মতো উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়ে গবেষণাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। নবীন এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আগামী পাঁচ বছরে কৃষি গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে চায় কর্তৃপক্ষ।

এ জন্য স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ, গবেষণা সুবিধা সম্প্রসারণ, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সম্প্রতি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য তুলে ধরেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহ. রাশেদুল ইসলাম। তিনি জানান, নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান শুরুর পাশাপাশি প্রশাসনিক কাঠামো, গবেষণার পরিবেশ ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গড়ে তুলতে হচ্ছে। অবকাঠামো ও জনবলের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

২০২১ সালের ২২ ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। ২০২৪ সালে শুরু হয় প্রথম একাডেমিক কার্যক্রম। বর্তমানে কৃষি ও মৎস্য—দুই অনুষদের অধীনে তিনটি ব্যাচে মোট ২২০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় বর্তমানে ভাড়া করা ভবনে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্যও অস্থায়ী ব্যবস্থা করতে হয়েছে। উপাচার্যের মতে, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না।

মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা, গবেষণা খামার, গবেষণাগার এবং শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য পরিকল্পিত ক্যাম্পাস প্রয়োজন।

তিনি জানান, স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এটি গড়ে উঠলে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক গবেষণাগার, ব্যবহারিক শিক্ষার জায়গা ও আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা সহজ হবে। ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সমস্যাকে গবেষণার কেন্দ্রে রাখার পরিকল্পনা
কুড়িগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণার ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ তৈরি করেছে বলে মনে করেন উপাচার্য। এ অঞ্চলের চরাঞ্চল, নিয়মিত বন্যা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কৃষি উৎপাদন ও মানুষের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই স্থানীয় কৃষক ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে গবেষণার বিষয় নির্ধারণ করতে চায় বিশ্ববিদ্যালয়টি।

চরাঞ্চলভিত্তিক কৃষি, বন্যা সহনশীল ফসল, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো কৃষিপদ্ধতি, খাদ্যনিরাপত্তা, মৎস্য এবং কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবনকে সম্ভাবনাময় গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন উপাচার্য। তাঁর মতে, গবেষণার ফল কৃষকের কাজে লাগাতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবেই নয়, আঞ্চলিক উন্নয়নের অংশীদার হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারবে।

গবেষণা সক্ষমতা বাড়াতে চারটি বিশেষায়িত গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি গবেষণাগার উন্নয়ন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ রয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঠভিত্তিক গবেষণার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শিক্ষার্থী ও জনবল উন্নয়নে গুরুত্ব
উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান বাড়াতে দক্ষ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী প্রয়োজন। এ জন্য পর্যায়ক্রমে জনবল নিয়োগের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, গবেষণায় অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একটি নবীন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি শক্ত করতে এসব কাজ ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি কৃষক ও কৃষির বাস্তব সমস্যা বুঝতে হবে। গবেষণা, প্রযুক্তি ব্যবহার, নেতৃত্ব ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করলে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশের কৃষি উন্নয়নে আরও কার্যকর অবদান রাখতে পারবেন। শিক্ষার্থীদের জন্য এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য।

উপাচার্যের পেশাগত পটভূমি
অধ্যাপক ড. মুহ. রাশেদুল ইসলাম শিক্ষকতা, গবেষণা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), ছাত্র উপদেষ্টা, বিভাগীয় চেয়ারম্যান এবং সহকারী হল প্রভোস্টসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। কৃষিবিদ ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকেও শিক্ষা, গবেষণা ও পেশাগত উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন।

ছাত্রজীবনে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক এবং ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গঠিত কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক এবং এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালনের তথ্য রয়েছে তাঁর পরিচিতিতে।

অধ্যাপক রাশেদুল ইসলামের প্রত্যাশা, শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে স্থায়ী ক্যাম্পাস, গবেষণা অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল গড়ে তোলা সম্ভব হলে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উত্তরাঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের কৃষি ও জলবায়ুজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানটি কার্যকর গবেষণাভিত্তিক সমাধান দিতে সক্ষম হবে।

সর্বশেষ