মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ইরান সীমিত পরিসরে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলেও তেলের লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন শর্ত আরোপ করেছে। তেলবাহী জাহাজের লেনদেন চীনের মুদ্রা ইউয়ানে সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বিশেষ করে মার্কিন ডলারের আধিপত্যের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়। এই পথের ওপর নিয়ন্ত্রণ বা সীমাবদ্ধতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রও সেখানে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মেরিন ফোর্স মোতায়েনের খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি প্রণালী এলাকায় নৌ-মাইন বা অন্যান্য সামরিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়, তবে তা অপসারণ করা অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান, রাশিয়া ও চীনের সম্ভাব্য কৌশলগত সমন্বয় নিয়েও আলোচনা চলছে আন্তর্জাতিক মহলে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এই পরিস্থিতি কেবল সামরিক নয়, বরং অর্থনৈতিক শক্তির ভারসাম্যেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।
ডলারের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কিছু অর্থনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, যদি বৈশ্বিক তেল লেনদেনে বিকল্প মুদ্রার ব্যবহার বাড়ে, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের প্রভাব কমতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সোনা ও রূপার মতো নিরাপদ সম্পদের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে অনেক বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি অত্যন্ত জটিল ও বহুমাত্রিক। তাই স্বল্প সময়ে কোনো একক ঘটনার কারণে মার্কিন অর্থনীতির বড় ধরনের পতন ঘটবে—এমন পূর্বাভাস দেওয়া এখনও সময়ের আগে হতে পারে।
সবমিলিয়ে হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান উত্তেজনা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতি, অর্থনীতি এবং জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

























