বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে তাকে জাতীয় সংসদের স্পিকার করার আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি করেছে।
মেজর হাফিজউদ্দিন আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের সময় সাহসিকতার জন্য বীর বিক্রম খেতাব পান। তিনি সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে ভূমিকা রাখেন। যুদ্ধের সময় তিনি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেছেন বলে জানা যায়।
স্বাধীনতার পর সেনাবাহিনীর চাকরি শেষে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন বিএনপি তে। ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরবর্তীতে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং মন্ত্রিত্বের দায়িত্বও পালন করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি বরাবরই সরব ও স্পষ্টভাষী নেতা হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে দলের ভেতরের বিভিন্ন বিষয়ে প্রকাশ্যে মতামত দেওয়ার কারণে তিনি বহুবার আলোচনায় এসেছেন। ২০০৭-০৮ রাজনৈতিক ক্রাইসিসের সময় তিনি সংস্কারপন্থী অবস্থান নেওয়ায় দলীয় রাজনীতিতেও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।
গত প্রায় দেড় দশকে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করেছেন তিনি। এমনকি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়েও বিভিন্ন সময় প্রশ্ন তুলেছিলেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দল না ছাড়ার অবস্থান বজায় রেখেছিলেন তিনি। নিজেই বহুবার বলেছেন—“সারাজীবন বিএনপি করেছি, শেষ জীবনেও বিএনপিতেই থাকতে চাই।”
এই প্রেক্ষাপটে তাকে স্পিকার পদে আনার সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। অভিজ্ঞ একজন পার্লামেন্টেরিয়ান হিসেবে সাতবার সংসদ সদস্য থাকা এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হলে তা দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত।

























