ঢাকা   রোববার ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

ইউরোপের মাটিতে ঐতিহাসিক জয়, সান মারিনোকে হারালো বাংলাদেশ

ইউরোপের মাটিতে ঐতিহাসিক জয়, সান মারিনোকে হারালো বাংলাদেশ

সমালোচিত সিনিয়র সোহেল রানা ছিলেন স্টার্টিং ইলেভেনে

ইউরোপের মাটিতে গিয়ে একটি ইউরোপীয় দলকে হারানোর স্বপ্ন দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের কাছে অনেকটা কল্পনার মতো ছিল। তবে সেই কল্পনাই এবার বাস্তবে রূপ নিয়েছে। সান মারিনোর মাঠে স্বাগতিকদের ২-১ গোলে পরাজিত করে স্মরণীয় এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল।

স্কোরলাইন খুব বড় না হলেও এই জয়ের গুরুত্ব বাংলাদেশের ফুটবল বাস্তবতায় অনেক বেশি। কারণ বিদেশের মাটিতে জয় পাওয়াই যেখানে বিরল ঘটনা, সেখানে ইউরোপের একটি দলকে তাদের ঘরের মাঠে হারানো নিঃসন্দেহে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মতো অর্জন।

ম্যাচের শুরুতে কিছু নির্বাচনী সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা থাকলেও মাঠে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ছিল ইতিবাচক। নতুন প্রধান কোচ টমাস ডুলির অধীনে প্রথম ম্যাচেই জয় পাওয়ায় দলের জন্য এটি হয়েছে দারুণ এক সূচনা।

বাংলাদেশের জয়ের নায়ক ছিলেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। ম্যাচের প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর একটি ভুলের কারণে প্রতিপক্ষ সমতায় ফিরলেও শেষ পর্যন্ত তিনিই আবার হেডে গোল করে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন। তার দুই গোলই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং তাকে ম্যাচের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

পুরো ম্যাচে বলের দখলে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। তবে আক্রমণভাগে বেশ কিছু সুযোগ নষ্ট হয়েছে এবং চূড়ান্ত পাস ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দুর্বলতা দেখা গেছে। বিশেষ করে ম্যাচের শেষভাগে প্রতিপক্ষ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে তুলে নেওয়ার পর আরও বেশি আধিপত্য দেখানোর সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে।

দ্বিতীয়ার্ধে হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমের উপস্থিতি দলের খেলায় স্পষ্ট পরিবর্তন আনে। বল নিয়ন্ত্রণ, পজিশনিং, খেলার গতি নির্ধারণ এবং আক্রমণ গঠনে তাদের প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। তাদের অভিজ্ঞতা ও মান দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

এই ম্যাচের পর আবারও আলোচনায় এসেছে প্রবাসী ও স্থানীয় খেলোয়াড়দের অবদান। তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি ব্যক্তি নয়, বরং উন্নয়ন কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত। উন্নত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, প্রতিযোগিতামূলক লিগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি করা কঠিন। ফলে দেশের ঘরোয়া ফুটবলের মানোন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমের মতো খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও যোগ্য প্রবাসী ফুটবলার দলে যুক্ত হলে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে স্থানীয় ফুটবলারদের উন্নয়নের জন্যও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

এদিকে ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমর্থন ছিল চোখে পড়ার মতো। অ্যাওয়ে ম্যাচ হওয়া সত্ত্বেও দর্শকদের উৎসাহ ও সমর্থন অনেকটা ঘরের মাঠের আবহ তৈরি করে।

সব মিলিয়ে এটি বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য আনন্দের এক রাত। তবে এই জয়কে চূড়ান্ত সাফল্য না ভেবে ভবিষ্যতের উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ সামনে রয়েছে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো ফল করাই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য।

দীর্ঘ ট্রফি খরা কাটিয়ে আঞ্চলিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। সান মারিনোর বিপক্ষে এই জয় সেই পথচলায় নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

সম্পর্কিত বিষয়: