ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইরানে স্থল অভিযান অসম্ভব
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে বড় আকারের স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করে, তা বাস্তবে সম্ভবপর নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করছেন। আফগানিস্তান বা ইরাকের মতো ছোট বা সীমিত আক্রমণের সঙ্গে তুলনা করা অনুচিত, কারণ ইরানের ভূগোল, প্রতিরক্ষা ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ অন্য মাত্রার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় আকারের সেনা মোতায়েনের জন্য কয়েকটি বাস্তব বাধা রয়েছে।
১. এয়ারবর্ন অপারেশন অপ্রয়োগযোগ্য: প্যারাশুট বা এয়ারবর্ন ড্রপ হলিউডের সিনেমার মতো চোখে সুন্দর লাগলেও বাস্তবে লাখ হাজার সৈন্য হঠাৎ আকাশ থেকে নামানো সম্ভব নয়। ইরানের রাডার ও এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বড় আক্রমণকে তাত্ক্ষণিকভাবে লক্ষ্যবস্তু বানাবে।
২. স্থল সীমান্তে সীমাবদ্ধতা: ইরানের সঙ্গে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, ইরাক ও তুরস্কের সীমান্ত রয়েছে। বড় ধরনের সীমান্ত অতিক্রমে দেশগুলো অনুমতি দেবে না। সীমান্ত ব্যবহার করেও বড় আক্রমণ সহজভাবে সম্ভব নয়।
৩. সাগরের মাধ্যমে আক্রমণ কঠিন: এক লাখ সৈন্যকে এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার বা সাবমেরিনে আনা অসম্ভব। প্রচুর বড় জাহাজ লাগবে, যা ইরানের মিসাইল ও মাইন ডিফেন্সের কাছে সহজে লক্ষ্যবস্তু হবে।
৪. লজিস্টিক ও সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি: এক লাখ সৈন্য মানে চলন্ত শহর। খাদ্য, তেল, ওষুধ, সরঞ্জাম—সবই সাপ্লাই চেইনের ওপর নির্ভর। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান যদি এই সাপ্লাই লাইনের ওপর আক্রমণ করে, হামলাকারী সৈন্যরা দ্রুত অসহায় হয়ে পড়বে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইরান আধুনিক দূরপাল্লার ও মাঝারি পাল্লার মিসাইল, এয়ার ডিফেন্স, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্কে সমৃদ্ধ। বড় আক্রমণ চেষ্টা করলেও ইরান তৎক্ষণাৎ কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
ফলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানে বড় স্থল অভিযান বাস্তবসম্মত নয় এবং এতে বিপুল মানবিক ও সামরিক ক্ষতি সম্ভাব্য।

























