মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি বাণিজ্যে মুদ্রা ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, ইরান ডলারের পরিবর্তে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে লেনদেনের শর্ত দিচ্ছে এবং কিছু দেশ এতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বৈশ্বিক নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের আধিপত্য এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের বড় অংশ এখনও ডলারে সম্পন্ন হয়, যা বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
যদিও চীন, রাশিয়া ও কিছু দেশ বিকল্প মুদ্রায় লেনদেন বাড়ানোর চেষ্টা করছে, তবুও তা এখনো সীমিত পরিসরে রয়েছে। ইউয়ান বা অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়লেও তা ডলারের অবস্থানকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিস্থাপন করতে পারবে—এমনটি মনে করছেন না অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে মুদ্রা পরিবর্তনের মতো বড় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সমন্বয় ও দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য প্রচার করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক অর্থনীতি এখনো বহুমাত্রিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং বড় ধরনের পরিবর্তন হলে তা ধাপে ধাপে দৃশ্যমান হবে।

























