ঢাকা   বৃহস্পতিবার ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২, ১৪ শাওয়াল ১৪৪৭

সৌদিতে ইরানি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফ্লাইং রাডার বিমান’ ধ্বংস; কী আছে এই বিমানে?

আন্তর্জাতিক

বিডিটোন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬:২৯, ২ এপ্রিল ২০২৬

সৌদিতে ইরানি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফ্লাইং রাডার বিমান’ ধ্বংস; কী আছে এই বিমানে?

সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেসে সাম্প্রতিক ইরানি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ E-3 Sentry AWACS বা “ফ্লাইং রাডার বিমান” ধ্বংস হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে নজরদারি সক্ষমতায় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

এই বিমানটি মূলত একটি উড়ন্ত রাডার ও কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করে। বিমানের উপরের বড় গোলাকার রাডার ডোমের মাধ্যমে এটি শত শত কিলোমিটার দূর থেকে আকাশ ও সমুদ্রপথে থাকা লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারে। যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং নৌযানের গতিবিধি পর্যবেক্ষণই এর প্রধান কাজ। 

সামরিক সূত্রগুলো জানায়, একটি AWACS বিমান একসঙ্গে প্রায় শত শত লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক করতে সক্ষম। এটি শুধু নজরদারিই করে না, বরং যুদ্ধক্ষেত্রে অন্যান্য যুদ্ধবিমান ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে রিয়েল-টাইম নির্দেশনাও দেয়। এজন্য এটিকে অনেক সময় “আকাশের চোখ” বলা হয়। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এ ধরনের বিমান সংখ্যা খুবই সীমিত। বহরে কার্যকর অবস্থায় থাকা AWACS বিমানের সংখ্যা আগেই কম ছিল। ফলে একটি বিমান ধ্বংস হওয়া আঞ্চলিক সামরিক অভিযানে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। 

এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা, আগাম সতর্কতা ও যুদ্ধ সমন্বয় ব্যবস্থায় সাময়িক দুর্বলতা তৈরি হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা। 

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বিমান ধ্বংস হওয়া শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং কৌশলগতভাবে বড় ধরনের নজরদারি ঘাটতি সৃষ্টি করতে পারে। একটি E-3 Sentry বিমানের মূল্য কয়েকশ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। 

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল নিবিড়ভাবে নজর রাখছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাকে নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।