ঢাকা   শুক্রবার ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২, ১৪ শাওয়াল ১৪৪৭

ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন মোড়

ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন মোড়: ব্রিটিশ ‘টাইগারশার্ক’ দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা

আন্তর্জাতিক

বিডিটোন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩:৫২, ২ এপ্রিল ২০২৬

ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন মোড়: ব্রিটিশ ‘টাইগারশার্ক’ দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা

সফল উড্ডয়ন পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে ব্রিটিশ ‘টাইগারশার্ক’ দীর্ঘপাল্লার স্ট্রাইক মিসাইল, যা ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন মোড় আনতে পারে।

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান MGI Engineering-এর তৈরি TigerShark দীর্ঘপাল্লার স্ট্রাইক সিস্টেম। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মিসাইল/স্ট্রাইক ড্রোনটির প্রথম সফল উড্ডয়ন পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি ইউরোপে এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এই শ্রেণির নতুন সিস্টেমের প্রথম সফল ফ্লাইট। 

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, TigerShark মূলত একটি কম খরচে উচ্চ-পাল্লার autonomous strike platform, যা প্রচলিত cruise missile-এর বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, এটি ৭৫০ কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত গতি অর্জন করতে পারে এবং ২০০–৩০০ কেজি ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। এর কার্যকর পাল্লা পে-লোড ও গতির ওপর নির্ভর করে ৫৫০ থেকে ৯০০ কিলোমিটার, আর কিছু পরীক্ষামূলক প্রতিবেদনে ১,০০০ কিলোমিটারের বেশি পাল্লার উল্লেখও পাওয়া গেছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর সাশ্রয়ী উৎপাদন খরচ। কোম্পানির আগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ইউনিটের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৫ লাখ ডলারের আশেপাশে, যা বহু মিলিয়ন ডলারের প্রচলিত ক্রুজ মিসাইলের তুলনায় অনেক কম। ফলে এটি যুদ্ধক্ষেত্রে অধিক সংখ্যায় মোতায়েন করা সম্ভব হতে পারে। 

TigerShark-এর গাইডেন্স সিস্টেমে সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান Auterion-এর উন্নত ন্যাভিগেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। নির্মাতা পক্ষের দাবি, এটি GPS ছাড়াও inertial navigation এবং terrain-mapping ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারে, ফলে জ্যামিং বা ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও কার্যকর থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। 

ইউক্রেনে এটি দ্রুত যুক্ত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই। তবে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা গণমাধ্যমে জোরালোভাবে আলোচনা হচ্ছে যে, পরীক্ষায় সফল হলে এটি ভবিষ্যতে ইউক্রেনের গভীর স্ট্রাইক সক্ষমতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। 

বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই সিস্টেম ইউক্রেনের হাতে যায়, তবে সীমান্ত থেকে রাশিয়ার অভ্যন্তরের সামরিক লজিস্টিক হাব, গোলাবারুদ ডিপো এবং কমান্ড সেন্টারগুলো নতুন করে হুমকির মুখে পড়তে পারে।