ঢাকা   সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩, ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

স্বচ্ছ প্রশাসন গড়তে কাজ করছে সরকার

স্বচ্ছ প্রশাসন গড়তে কাজ করছে সরকার

স্বচ্ছ প্রশাসন গড়তে কাজ করছে সরকার

দুর্নীতির সুযোগ ক্রমাগত সংকুচিত করে সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং জনগণকে দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা দিতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংসদ কার্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ নয়; বরং এমন একটি প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ সৃষ্টি করা, যেখানে দুর্নীতির সুযোগ কমে আসবে এবং সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।

আজ জাতীয় সংসদে যশোর-৬ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. মোক্তার আলীর কার্যপ্রণালি বিধির ৭১-এর আওতায় উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন হিসেবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি ঘোষণা করেছে। এ দর্শনের ভিত্তিতে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, ইনসাফভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ও সুশাসন সুদৃঢ় করতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।

তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ইতোমধ্যে ৪৯৫টি দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দুর্নীতি সংঘটিত হওয়ার আগেই তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে দুর্নীতি দমন কমিশনের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এবং অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনার জন্য এনফোর্সমেন্ট ইউনিট কার্যকর রয়েছে। অভিযোগ গ্রহণে ১০৬ হটলাইনের পাশাপাশি ৯৯৯ ও ৩৩৩ জাতীয় হটলাইনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তিনি বলেন, দুর্নীতি, অনিয়ম, অপচয়, দায়িত্বে অবহেলা ও ক্ষমতার অপব্যবহার প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার আওতায় নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ম বা অসদাচরণের তথ্য পাওয়া গেলে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন আইন, ২০০৪, দণ্ডবিধি ও ফৌজদারি কার্যবিধিসহ প্রযোজ্য আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের বহুমুখী তদারকি ব্যবস্থা রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি), প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটি (পিএসসি), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন সেল ও উন্নয়ন শাখা এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তিনি বলেন, পরিকল্পনা কমিশনের মূল্যায়ন ও পরিবীক্ষণ এবং এডিপি, আরএডিপি মনিটরিং সিস্টেম (এএমএস)-এর মতো ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর মাধ্যমে জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (জিআরএস)-এর মাধ্যমে সরকারি সেবা সংক্রান্ত অসন্তোষ বা অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি সরকারি দপ্তরে সিটিজেন চার্টারের মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত সেবা, সেবা পাওয়ার স্থান, পদ্ধতি ও সময়সীমা সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, সরকারি কর্মসম্পাদনকে আরো ফলাফলভিত্তিক, কৌশলগত ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে গভর্নমেন্ট পারফরম্যান্স মনিটরিং সিস্টেম (জিপিএমএস) চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি সেবার মানোন্নয়ন, প্রকল্প ও কর্মসূচির সময়মতো বাস্তবায়ন, সরকারি সম্পদের কার্যকর ব্যবহার এবং সুশাসন ও জবাবদিহিতা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে সরকার আশাবাদী।

তিনি আরো জানান, সরকারি কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের পরিবীক্ষণ টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক গঠিত এসব টিম ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পরিবীক্ষণ টিম দৈবচয়নের ভিত্তিতে বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করে কার্যক্রমের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করবে, উত্তম চর্চা চিহ্নিত ও সম্প্রসারণের সুপারিশ করবে এবং জনগণকে সেবা প্রদানের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দাখিল করবে।