ঢাকা   শনিবার ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২, ১৫ শাওয়াল ১৪৪৭

ট্রাইবেকারে ভারতকে হারিয়ে আবারও সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ।

খেলাধুলা

বিডিটোন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:১৫, ৪ এপ্রিল ২০২৬

আপডেট: ০০:২৫, ৪ এপ্রিল ২০২৬

ট্রাইবেকারে ভারতকে হারিয়ে আবারও সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ।

রোনানের ঠান্ডা মাথার পানেনকার কিকে সাফ জিতল বাংলাদেশ

কখনো কখনো একটি ম্যাচ কেবল ৯০ মিনিটের ফুটবল থাকে না; সেটি হয়ে ওঠে ইতিহাস, আবেগ আর বিশ্বাসের গল্প। মালেতে এমনই এক রাতের সাক্ষী হলো বাংলাদেশ। দুই বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও সাফ অনূর্ধ্ব-২০ শিরোপা জিতেছে লাল-সবুজের তরুণরা। আর এই জয়ের শেষ অধ্যায় লেখা হলো রোনান সুলিভানের ঠান্ডা মাথার পানেনকা পেনাল্টিতে।

টাইব্রেকারের সেই মুহূর্তে গ্যালারি নিস্তব্ধ। চাপ, উত্তেজনা আর শিরোপার ভার—সবকিছুকে পাশে সরিয়ে এক অসাধারণ আত্মবিশ্বাসী শটে বল জালে জড়ান রোনান। খুব জোরে নয়, খুব উঁচুতেও নয়; বরং নিখুঁত মাপা স্পর্শে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে তিনি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশের শিরোপা জয়। বল জালে জড়াতেই মালেতে শুরু হয় লাল-সবুজের উল্লাস, আর ট্রফি আবারও ফিরে আসে বাংলার ঘরে।

এই শিরোপা জয়ের পথটাও ছিল নাটকীয়। ২০২৪ সালে প্রথমবার বয়সভিত্তিক সাফে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০২৫ সালে ফাইনালে হৃদয়ভাঙা হার। তবে এই তরুণ দলটি প্রমাণ করেছে, সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নরা পরাজয়ে ভেঙে পড়ে না; বরং আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে। ২০২৬ সালে আবারও ট্রফি জিতে তারা দেখিয়ে দিল, ধারাবাহিকতা ও মানসিক দৃঢ়তা থাকলে প্রত্যাবর্তন সবসময় সম্ভব।

পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণভাগ। সলিড, কনফিডেন্ট এবং নির্ভীক ডিফেন্স প্রতিপক্ষকে প্রায় সব ম্যাচেই আটকে রেখেছে। ফাইনালেও ভারতের আক্রমণভাগ তেমন কোনো পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। বরং ম্যাচের বড় অংশে বাংলাদেশই প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছে। আক্রমণে ফিনিশিং আরও শাণিত হলে নির্ধারিত সময়েই ফল আসতে পারত।

মিডফিল্ডে ডেকলান সুলিভান ছিলেন দলের হৃদস্পন্দন। পুরো ম্যাচে টেম্পো নিয়ন্ত্রণ, বলের বিল্ড-আপ এবং আক্রমণ-রক্ষণ সংযোগে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত কার্যকর। অন্যদিকে রোনান বল পায়ে তুলনামূলক শান্ত থাকলেও অফ দ্য বল মুভমেন্টে প্রতিপক্ষ রক্ষণে বারবার ফাঁক তৈরি করেছেন।

গোলপোস্টের নিচে ইসমাইল ছিলেন দুর্ভেদ্য প্রাচীর। শুধু টাইব্রেকারে পেনাল্টি সেভই নয়, পুরো ম্যাচজুড়ে তার উপস্থিতি, কম্পোজার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ ছিল অসাধারণ। একই সঙ্গে মোর্শেদ আলী সেমিফাইনাল ও ফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে দলের রক্ষণকে আরও শক্তিশালী করেছেন। টাইব্রেকারের প্রথম শটেও তার আত্মবিশ্বাসী ফিনিশ ছিল প্রশংসনীয়। আর ইনজুরিতে মাঠ ছাড়ার আগ পর্যন্ত মোহাম্মদ মানিকও অসাধারণ লড়াই চালিয়ে গেছেন।

তবে এই জয়ের মাঝেও সমর্থকদের মনে একটি প্রশ্ন রয়ে গেছে—এই সাফল্য কি দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা সম্ভব হবে? অতীতে বহুবার দেখা গেছে, সাফল্যের পরও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে দেশের ফুটবল। তবুও আজকের রাতটি শুধুই উদযাপনের। মালেতে জয়ের নিশান উড়ছে, ঢাকায় উৎসব, আর কোটি মানুষের হৃদয়ে একটাই অনুভূতি—গর্ব।

এই ট্রফি কেবল একটি শিরোপা নয়; এটি নতুন বিশ্বাস, নতুন শুরু এবং বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য নতুন আশার নাম।

 অভিনন্দন, বাংলাদেশ। আবারও চ্যাম্পিয়ন!

সম্পর্কিত বিষয়: