বিশ্ব ফুটবলে সুলিভান নামটি নতুন নয়। এই পরিবারের সবচেয়ে পরিচিত দুই নাম কাভান সুলিভান এবং কুইন সুলিভান—যারা ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে।
কুইন সুলিভান বর্তমানে এমএলএসে নিজের পজিশনে অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে বিবেচিত। ইতোমধ্যেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন। অন্যদিকে কাভান সুলিভানকে ধরা হয় পরিবারের সবচেয়ে বড় প্রতিভা হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেক হওয়া এই ফুটবলারকে ভবিষ্যতের তারকা হিসেবে দেখছে । আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভবিষ্যতে তিনি -এর প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন বলেও জোর আলোচনা রয়েছে।
গত বছর (বাফুফে) সুলিভান পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পরিবার জানায়, তাদের বাকি দুই ছেলে বাংলাদেশের হয়ে খেলবে। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপ দেখা গেল চলতি টুর্নামেন্টে।
প্রথমবার বাংলাদেশের জার্সি গায়েই রোনান ও ডেক্লান জিতে নিল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দুই ভাইয়ের পারফরম্যান্স ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
বিশেষ করে রোনানের পারফরম্যান্স নতুন আশার জন্ম দিয়েছে। তাকে দেখে অনেকেরই মনে হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয় দলের যে নাম্বার নাইন সংকট রয়েছে, তার সম্ভাব্য সমাধান হতে পারেন তিনিই।
অন্যদিকে ডেক্লানকে ঘিরেও ছিল ব্যাপক আলোচনা। অনেকের মতে, তিনি শুরুর একাদশে থাকার পুরো যোগ্যতা রাখতেন। তবুও শেষ পর্যন্ত ভাইয়ের সঙ্গে শিরোপা জিতে স্মরণীয় এক অধ্যায়ের অংশ হয়ে গেলেন তিনি।
ফাইনালের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে উইনিং পেনাল্টিতে, যখন রোনান ঠান্ডা মাথায় পানেনকা শটে বল জালে জড়িয়ে দলকে শিরোপা এনে দেন। ভাই ডেক্লানের সামনে এমন একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত ফুটবল ইতিহাসেও বিরল দৃশ্যগুলোর একটি।
এই টুর্নামেন্টে রোনান দেখিয়েছেন, নিজের পূর্ণ সামর্থ্যে পৌঁছাতে পারলে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড হয়ে উঠতে পারেন। একইভাবে ডেক্লানের বিকাশও বাংলাদেশ ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্য দারুণ আশাব্যঞ্জক।
সুলিভান পরিবারের প্রতিভা এখন শুধু আলোচনার বিষয় নয়, বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

























